Spread the love

সময়ের মূল্য বা সময়ানুবর্তিতা প্রবন্ধ রচনা

সময় একবার অতিক্রান্ত হলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না এজন্যই সময়ের মূল্য যে কোনো কিছুর থেকেই অধিক। মানুষের জীবনে তাই সময় সবচেয়ে মূল্যবান একটি সম্পদ। সৃষ্টির শুরু থেকেই পৃথিবীর নানা পরিবর্তন হয়েছে, আবিষ্কৃত হয়েছে অনেক কিছু কিন্তু সময়কে ধরে রাখার কোন যন্ত্র বা পদ্ধতি মানুষ আবিষ্কার করতে পারেনি। নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না তেমনি সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।

ভূমিকা:

তুমি যা কিছু খরচ করো, তার মধ্যে সময় সব চেয়ে দামি
-(গ্রিক প্রবাদ )

সময় সদা বহমান, সে কারো জন্য অপেক্ষা করে না, বয়ে চলা তার একমাত্র অভ্যাস। বহমান সময় কাজে লাগিয়ে মানুষ তার জীবনে সফল হতে পারে। মানুষ এই পৃথিবীতে আসে অতি অল্প সময়ের জন্য তাই নিজের জীবনকে সুখী ও সুন্দর করে তুলতে হলে সময়কে মূল্যায়ন করতে হবে। মানুষকে ক্ষণকাল পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হয় সেই বেঁচে থাকা পূর্ণতা পাবে সময়কে সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না তার লক্ষ্য সামনের দিকে ধাবিত হওয়া। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত যে সময়টুকু পেয়ে থাকি তার উপযুক্ত ব্যবহার করতে পারলে আমাদের জীবন অধিক সুন্দর হতে পারে। মনে রাখা দরকার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সকল কিছু ফিরে পাওয়া সম্ভব হলেও সময় হারিয়ে গেলে তাকে আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায় না।

সময়ের মূল্য:  সময় একবার অতিক্রান্ত হলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না এজন্যই সময়ের মূল্য যে কোনো কিছুর থেকেই অধিক। মানুষের জীবনে তাই সময় সবচেয়ে মূল্যবান একটি সম্পদ। সৃষ্টির শুরু থেকেই পৃথিবীর নানা পরিবর্তন হয়েছে, আবিষ্কৃত হয়েছে অনেক কিছু কিন্তু সময়কে ধরে রাখার কোন যন্ত্র বা পদ্ধতি মানুষ আবিষ্কার করতে পারেনি। নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না তেমনি সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। জীবনকে সার্থক করতে হলে সময়ের ঠিক ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। সময় কখনও কোন অজুহাতেই কারো জন্য বিলম্ব করে না।মানুষের জীবনের দুঃখ কষ্ট থাকে যা একে অন্যকে প্রভাবিত করে কিন্তু সময় কোন কিছুর দ্বারা প্রভাবিত হয় না সে আপন গতিতে ছুটে চলে। 

সময়ের সদ্ব্যাবহার: সময় নির্ধারণ করে দেয় মানুষের জীবন আলোকিত না অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে। যদি কোন ব্যক্তি সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহার করে তবে তার জীবন আলোয় পরিপূর্ণ হবে আর যদি অবহেলার মধ্য দিয়ে অলসতায় সময় কাটায় তবে তার জীবন হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন। মানুষ কখনই চিরদিনের জন্য বেঁচে থাকতে পারেনা কিন্তু মানুষ কর্ম দিয়ে অনন্তকাল মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারে। জীবনের সঠিক লক্ষ্যে স্থির করে সেখানে পৌছানোর জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, মেধা ব্যয় করতে হবে কিভাবে সময় অনুসরণ করতে হবে। সময় অবহেলা করে কখনোই জীবনে উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয়।আজ আমরা উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখতে পাই তাদের অনন্ত ছুটে চলা, এই চলার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সাফল্যের সোনার চাবি। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সময়কে পূর্ণরূপে ব্যবহারের মধ্যেই সফলতা ভিত্তি নিহিত রয়েছে।

সময়ের গুরুত্ব: ‘আমরা যদি সময়ের যত্ন নেই, তবে সময় আমাদের যত্ন নেবে’ এই চিরন্তন সত্য বাণীর মধ্যে  সময়ের গুরুত্ব নিহিত রয়েছে। পৃথিবীতে  খ্যাতি অর্জন করা প্রতিটি মানুষ সময়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আলসেমি অবহেলায় সময়কে অতিবাহিত করলে কখনোই জীবনে ভালো কোনো কিছু অর্জিত হবে না যদি হয়েও থাকে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। মানব জীবনের সবচেয়ে দুর্লভ বস্তু সময় তাই সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার না করার মত বোকামি আর নেই। জন্ম এবং মৃত্যুর মধ্যবর্তী যে সময়টুকু আমরা পেয়ে থাকি তাকে মধুময় করতে হলে সময়ের মূল্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হতে হবে। মানুষ কখনো কখনো ব্যর্থতার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে শুরু করে কিন্তু যদি ওই মানুষটি সময়  বিবেচনা করে আবার নতুন করে শুরু করতে পারে তবে তা শেষ পর্যন্ত সফলতায় রূপান্তরিত হতে পারে ।জীবনের সকল কর্তব্য কর্মের জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে তাই সকল কর্ম যথা সময়ে শেষ করতে হলে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে।প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের দিকে আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখব কৃষিকাজে প্রতিটি ফসল উৎপাদনের জন্য একটি সময় ভাগ করে দেওয়া রয়েছে, সময় উপযোগী ফসল রোপন করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব  কিন্তু ফসল উৎপাদনের সময় যদি যথোপযুক্ত বিবেচনায় না রাখি তাহলে নিশ্চয়ই ভালো ফলন পাওয়া যাবে না। মানুষের জীবনও ঠিক একই রকম কারণ সফল হতে হলে সময়কে যথাযথ ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সময় মূল্যবান হওয়ার কারণ:  ‘সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’– অতি পরিচিত এ বাক্যটির মাধ্যমেই আমরা অনুধাবন করতে পারি সময় কেন আমাদের কাছে অতি মূল্যবান। সময়কে কোন কিছুতেই যেমন পরিমাপ করা যাবে না তেমনি হারিয়ে যাওয়ার সময় কে কোনোভাবেই কোনো কিছুর বিনিময়ে তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। সময়ের কাজ যদি আমার সময় না করি তাহলে কাজ পড়ে থাকবে সময় চলে যাবে, কাজের বোঝা ভারী হতে হতে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে জীবনে নেমে আসবে হতাশা।ছন্দোবদ্ধ জীবনকে আরো আনন্দময় করতে সময়ের সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলতে হবে। সমস্ত দিনের কাজ সময় অনুসারে ভাগ করতে হবে এবং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজ পারস্পরিক সম্পর্কের বাঁধনে বাঁধা।।সময়কে অবহেলা করে কোনভাবেই জীবনে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয় তাই প্রতিটি মানুষের জীবনে সময় অত্যন্ত মূল্যবান।

সময় অবহেলার পরিণতি:  ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ লালন ফকিরের এই চিরন্তন বাণীর মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সময় অবহেলার পরিণতি কেমন হতে পারে।এক কথায় বলা যায়, সময় অবহেলার পরিণতি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সময়কে কখনোই চোখে দেখা যায় না, সে কোন শব্দ করে না, নিঃশব্দে সকলের অগোচরে সকলের অন্তরালে বয়ে চলে । সময়ের সদ্ব্যবহার করার বিষয়ে জ্ঞানী মানুষ থাকে সচেতন আর উদাসীনায় ভরা জীবন সময় মূল্যায়ন করার বিষয়ে থাকে একেবারেই অসচেতন। তাই উদাসীন ব্যক্তি জীবনে নেমে আসে অমাবস্যার অন্ধকার।সময়কে অবহেলা করলে সময়ই মানুষের ওপর প্রতিশোধ নেয়।দুঃখময় অভিশপ্ত জীবন মানুষকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয় অপরদিকে সময়ের ঠিক ব্যবহার জীবনকে করে সুখী ও সমৃদ্ধি পূর্ণ। শৈশবের কাজ যেমন যৌবনে হয় না তেমনি যৌবনের কাজ বার্ধক্যে হয়না। জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে, মানুষর দায়িত্ব হলো সময়কে বিবেচনা করে নির্ধারিত কাজ শেষ করা। অবহেলায় একটি কাজ যদি রেখে দেওয়া হয় পরবর্তীতে দেখা যাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এসে হাজির হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো কাজই ঠিকভাবে করা সম্ভব হবে না।

ছাত্রজীবনের সঙ্গে সময়ের মূল্যের সম্পর্ক: জীবন গড়ার সবচেয়ে উত্তম সময় ছাত্র জীবন। ছাত্রজীবনকে তুলনা করা হয় আগুনে পোড়ানো লোহার সাথে কারণ পোড়ানো লোহা গরম থাকা অবস্থায় যে কোন আকারের বস্তুতে পরিণত করা যায় কিন্তু লোহা ঠান্ডা হলে ইচ্ছামত আকার দেওয়া যায় না। একইভাবে ছাত্রজীবন হল এমন একটা সময় যা নির্ধারণ করে দেবে ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে। যদি ছাত্রজীবনের সময়কে যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করতে পারি তবে পরবর্তী জীবন হবে সার্থক ও সুন্দর। কর্মময় জীবনের সফলতা নির্ভর করে ছাত্র জীবনে সময় কতটুকু মূল্যায়ন করা হয়েছে তার উপর। জীবনের বীজ বপন করতে হয় ছাত্রজীবনে তবেই সুফল পাওয়া যায়। ছাত্রজীবনে যদি সময়কে অবহেলা করি পরবর্তী কালে কোন অনুশোচনায় সময়কে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। সময়কে অবহেলা করা ছাত্র শুধু পরীক্ষাতে খারাপ করবে না পরবর্তী জীবনের পথ হবে অন্ধকার।নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরচর্চা করতে হবে এবং পরিবারের দায়িত্ব পালন করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ছাত্রজীবন থেকেই আমাদের অধ্যবসায়ের পাশাপাশি সময়ের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

মনীষীদের জীবনে সময়নিষ্ঠা: জীবনে চলার পথে তারাই সফলতা অর্জন করতে পেরেছে যারা সময়কে যথাযথ মূল্যায়ন করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান খেলাধুলা সহ বিভিন্নভাবে যাদেরকে আমরা স্মরণ করে থাকি তাদের জীবনের ইতিহাস লক্ষ্য করলে সময়নিষ্ঠতা প্রমাণ পাওয়া যায়। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শেক্সপিয়ার, নিউটন, আইনস্টাইন,প্রভৃতি মনীষীর জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে প্রত্যেকের সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে সময়নিষ্ঠতা।গাছের যে প্রাণ আছে এই কথাটি প্রমাণ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন জগদীশ চন্দ্র বসু, তাঁর ধৈর্য এবং সময়ানুবর্তিতার ফলে তিনি সেটি প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা একের পর এক পায়ে আঘাত পেয়ে দল থেকে বাদ পড়েছেন তবে মনোবল না হারিয়ে সময়কে কাজে লাগিয়েছেন এবং আস্তে আস্তে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন ।অবসাদ ক্লান্তি কখনোই তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি ফলে আবার জায়গা করে নিয়েছিলেন জাতীয় দলে।শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য শিরোপা।বিশ্ব ইতিহাসে তাকালে দেখা যায় আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করে ভিয়েতনাম অর্থনৈতিক ভাবে অত্যন্ত পর্যবসিত হয়েছিল কিন্তু সেইদেশ সময়কে কাজে লাগিয়ে নিয়ম ও নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতে বিশ্ববাজারে নিজেদের শ্রেষ্ঠ অবস্থান করে নিয়েছে একই সাথে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। জাপান এশিয়া মহাদেশের একটি উন্নত দেশ যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল। সময়ের মূল্য এবং পরিশ্রম দ্বারা জাপানিরা আজ উন্নত জীবন ভোগ করছে। আলেকজান্ডার,আব্রাহাম লিঙ্কন, অতি সাধারণ জীবন থেকে হয়েছেন নেতৃস্থানীয়।এমনিভাবে সময়কে যথাপোযুক্ত কাজে লাগিয়ে প্রতিটি মানুষ জীবনে সফল হতে পারে। মানুষের মধ্যে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হলে সময়কে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।মনীষীরা জগদ্বিখ্যাত হয়েছে এই সময়ানুবর্তিতার কারণেই।

সময়কে কাজে লাগানোর উপায়:  প্রতিটি মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে লিপ্ত থাকে এমনিভাবে সারাটি জীবন তাকে কাজের মধ্যে থাকতে হয়। প্রতিটি কাজ সফলতার সাথে শেষ করতে হলে আমাদেরকে কাজ অনুসারে সময় ভাগ করে নিতে হবে। কোন কাজটি সকালে করবো আর কোন কাজটি বিকেলে বা সন্ধ্যায় করব সেটি নির্ভর করবে কি কাজ করব বা কেমন কাজ সে বিষয়টির উপর। একজন ছাত্রের প্রধান কাজ থাকে পড়াশোনা করা পাশাপাশি শরীর ঠিক রাখার জন্য খেলাধুলা এবং সময় বিশেষে পরিবারের কাজে সহায়তা করা। একটি ছাত্রকে তার সামষ্টিক কাজকে সময় অনুসারে ভাগ করে নিতে হবে তাহলে তার পড়াশোনা যেমন ঠিক থাকবে তেমনি আনুষঙ্গিক সকল কিছুই সুন্দর ভাবে পরিচালিত হবে। একটানা কোন কাজই ভালো লাগেনা বা কাজ করতে সমান আগ্রহ থাকে না তাই কাজের মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে হবে। সময় একবার চলে গেলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না ফলে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সময়কে যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগাতে হলে একটু বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা থাকলেই সম্ভব। কাজের পরিধি অনুসারে সময়কে বিভাজন করতে হবে তাহলে সব কাজ সময়মতো সম্পন্ন হবে।জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য সময়কে কাজে লাগানোর কোন বিকল্প নেই।

বাঙালির সময়জ্ঞান: বাঙালি সমাজে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে তা হল- ‘আঠারো মাসে বছর’ এই প্রবাদের প্রভাব রয়েছে বাঙালি জীবনে। কোন কাজেই আমরা সময়মতো করি না এবং আমাদের মানসিকতা হয়ে গেছে সময়ের কাজ সময়ে না করার।কোথাও কোনো অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার নির্ধারিত যে সময় থাকে সে সময়ে কখনোই শুরু হয় না এবং আমরাও  ধরে নিয়েছি নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে ১ বা ২ ঘন্টা পরে অনুষ্ঠান শুরু হবে। আমাদের  জীবনে এই যে সময়  সম্পর্কে উদাসীনতা  তার অন্যতম কারণ  প্রাচীনকাল থেকে গ্রাম ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। গ্রামে মাঠে ফসল হলে কৃষকের আর কোন চিন্তা থাকে না ,কৃষকের মধ্যে অলসতা কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই যে জীবনের ছন্দ সেটি থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ইংরেজদের আগমন পর্যন্ত। পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছোঁয়া যখন আমাদের সমাজে  লাগতে শুরু করেছে তখন থেকেই বাঙালি জীবনে গতি আসতে শুরু করে। সময়কে কাজে লাগিয়ে পাশ্চাত্য যেখানে উত্তরোত্তর সাফল্য অর্জন করছে সেখানে আমরা পিছনের দিকে চলে যাচ্ছি। তবে বর্তমান সময়ে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের সংস্পর্শে এসে বাঙালি জীবনে পরিবর্তন এসেছে তবে তা এখনও পাশ্চাত্যের মতো পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারেনি।  বাঙালির  আরো বেশি সময় সচেতন হতে হবে তবে আমাদের দীর্ঘদিনের অলসতার অপবাদ ঘুচবে।

সময়ানুবর্তিতার বাধাসমূহ: ‘অলস-অবোধ যারা কিছুই পারে না তারা’ কবিতার এই চরণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সময়ানুবর্তিতার সবচেয়ে বড় অন্তরায় বা বাধা । অলস মানসিকতা সময়ানুবর্তিতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। যে কাজটি  যখন করার কথা তখনই সেই কাজটি করতে হবে।  আমাদের মনের মধ্যে যদি কখনো আলস্য ভাব তৈরি হয় তাহলে সচেতনভাবেই আলস্য পরিহার করে সময় অনুসারে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সময়ানুবর্তিতার আরেকটি বাধা অলস বন্ধু নির্বাচন। যদি তোমার বন্ধু সময়কে যথাযথ অনুসরণ করে তাহলে তোমার মধ্যে সময়কে অনুসরণ করার একটা প্রবণতা তৈরি হবে কিন্তু তোমার বন্ধু যদি অলস হয় তাহলে তোমার মধ্যে সেই অলসতা প্রভাব বিস্তার করবে। বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাই তোমাকে অবশ্যই সময়ানুবর্তী বন্ধুকে বেছে নিতে হবে। সর্বোপরি নিজের ইচ্ছায় সবচেয়ে বড় কথা, ইচ্ছা শক্তি যদি থাকে তাহলে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। 

সময় মূল্যায়ন ও জীবনে সাফল্য লাভ: ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়’ এই প্রবচনের মধ্যে নিহিত রয়েছে সময়মতো কাজ করার প্রয়োজনীয়তা।প্রতিনিয়ত বয়ে চলা সময়ের কাজ। সে কখনো কারো জন্য অপেক্ষা করে না। জীবনে প্রতিষ্ঠা ও সাফল্য লাভ করতে হলে আমাদেরও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে এবং নিজের দায়িত্ব ,কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে। ব্যক্তিভেদে কাজের ভিন্নতা থাকে। নিজের কাজকে যথাযথভাবে সম্পন্ন করলে জীবনে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে। তাই বলা যায় সময়কে মূল্যায়ন করার ওপর জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করে।

উপসংহার: জীবনের সঙ্গে সময় এবং  সময়ের সঙ্গে সাফল্য সম্পর্কিত। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি কোন ভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি  সমাজ জীবনে সময়ানুবর্তিতার চর্চা সর্বদা কল্যাণ বয়ে আনে। জীবনকে উপভোগ করার পাশাপাশি সময় মূল্যায়ন করতে পারলে একজন মানুষ সফল হবে। সময়কে অবহেলা করে আমরা কখনই উল্লেখযোগ্য কিছু  লাভ করতে পারব না। সময়ের মূল্য মানুষের উন্নতির চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তাই আমাদের একটি ইংরেজি প্রবাদ সবসময় মনে রাখা উচিত-    Time and tide wait for none.

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top